প্রান্তিক ভিত্তিতে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ হার বিশ্লেষকদের ৩ দশমিক ৩ শতাংশের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, প্রবৃদ্ধির এ গতি মূলত ভোক্তা ব্যয় ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের জোয়ার ব্যবসার চাহিদা বাড়িয়েছে। এছাড়া আমদানি কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে, যা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে শ্রমবাজারে চাপ বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক ও অভিবাসন নীতির কঠোরতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে নিয়োগ বৃদ্ধি খুবই সীমিত ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বেকার ভাতার নতুন আবেদন কমেছে। গত সপ্তাহে এ ধরনের আবেদনকারীর সংখ্যা নেমেছে ২ লাখ ১৮ হাজারে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪ হাজার কম।
আর্থিক সেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফডব্লিউডি বন্ডসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুপকি বলেন, ‘বর্তমান সুদহার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমাচ্ছে না। শ্রমবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির গতি কমে যায়, তবে এর কারণ অর্থনীতির দুর্বলতা নয়। বরং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিই দায়ী।’
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) অর্থনীতি দশমিক ৬ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ায়। শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমার ফলেই প্রবৃদ্ধিতে যুক্ত হয়েছে ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো ভোক্তা ব্যয়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। পরিবহন, আর্থিক ও বীমা খাতে বেশি খরচ হওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি এসেছে। ব্যবসায়িক বিনিয়োগও গতি পেয়েছে। যন্ত্রপাতি খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হারে।
তবে শেয়ারবাজারে প্রবৃদ্ধির প্রতিবেদনের প্রভাব ছিল নেতিবাচক। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, প্রবৃদ্ধির এ চিত্রের কারণে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) শিগগিরই আর সুদহার কমাবে না। ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলোয় পতন হয়েছে, ডলারের বিনিময় হার ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধির গতি কমে যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার ও শুল্কনীতি শ্রমবাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।
ইওয়াই-পার্থেননের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লিডিয়া বুসর বলেন, ‘তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এআই বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয়ের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকতে পারে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’